সংখ্যালঘু শিশুকে ধর্ষণে অভিযুক্ত মাদ্রাসা ছাত্র

হ্যালো দিল অসাম্প্রদায়িকতার শিক্ষা

চার শিশু-প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

বাগেরহাটের শরণখোলা, ফরিদপুরের সালথা, কুড়িগ্রামের উলিপুর ও মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে চারজনকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্যাতিতাদের মধ্যে দুটি শিশু ও দুজন শারীরিক প্রতিবন্ধী। চার অভিযুক্তের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নে মঙ্গলবার রাতে মাদরাসাছাত্রের (১৬) বিরুদ্ধে এক ধর্মীয় সংখ্যালঘু শিশুকে (১২) ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। গতকাল সকালে ভুক্তভোগীর মামা বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে শরণখোলা থানায় মামলাটি করেন। ধর্ষণে অভিযুক্ত তরুণ গ্রেপ্তার হয়েছে। তার বাড়ি একই ইউনিয়নের বগী গ্রামে। সে স্থানীয় সুন্দরবন ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসায় দশম শ্রেণিতে পড়ে। শিশুটি স্কুলশিক্ষার্থী। তাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত তরুণ পথেঘাটে মেয়েটিকে উত্ত্যক্ত করত। এতে মেয়েটি সাড়া দেয়নি। মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে মেয়েটি নানার ঘর থেকে পাশে মামার ঘরে যাচ্ছিল। এ সময় ওত পেতে ছিল তরুণ ও তার দুই বন্ধু। তরুণ মেয়েটিকে গামছা দিয়ে মুখ চেপে ধরে বন্ধুদের সহযোগিতায় বাগানে নিয়ে নির্যাতন করে। তাদের ধস্তাধস্তির শব্দ পেয়ে ঘর থেকে মেয়েটির মামি বের হয়ে কাছে গেলেই তরুণ ও তার বন্ধুরা পালিয়ে যায়।

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নে মঙ্গলবার রাতে এক প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণে অভিযুক্তের নাম মো. মিজানুর রহমান (৩৭)। অটোরিকশাচালক মিজানুর ইছাপুরার পশ্চিম রাজদিয়া গ্রামের শেখ আজগর আলীর ছেলে। ঘটনার রাতেই ভুক্তভোগীর মা সিরাজদিখান থানায় মামলা করেন। গতকাল ভোরে মিজানুরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আসামিকে আদালতে ও ভুক্তভোগীকে মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সালথা উপজেলায় গত ২৬ মার্চ বিকেলে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী তরুণীকে (২৩) ধর্ষণে অভিযুক্তের নাম রশীদ মুন্সী (৫০)। গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলার আটঘর ইউনিয়ন থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিন রাতেই নির্যাতিতা তরুণীর বাবা সালথা থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেন। এর আগে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। আসামি রশীদ মুন্সীকে গতকাল বুধবার আদালতে ও ভুক্তভোগীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ।

উলিপুর উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নে দ্বিতীয় শ্রেণি পড়ুয়া একটি শিশু (৮) গত মঙ্গলবার দুপুরে নির্যাতনের শিকার হয়। এ ঘটনায় ওই দিন রাতে উলিপুর থানায় একটি মামলা করেন শিশুটির বাবা। পরে অভিযুক্ত মহুবর রহমানকে (৫০) গ্রেপ্তার করে গতকাল জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। মহুবরের বাড়ি রামধন বড়বাড়ী গ্রামে। মামলা সূত্রে জানা গেছে, শিশুটি তার এক সহপাঠীর সঙ্গে বাড়ির পাশে একটি নালায় গরুর ঘাস কাটতে যায়। তখন সেখানে গরুকে ঘাস খাওয়াচ্ছিলেন মহুবর রহমান। তিনি অসদুদ্দেশ্যে শিশুটিকে জড়িয়ে ধরেন। ঘটনাটি দেখে তার সহপাঠী দৌড়ে বাড়িতে গিয়ে শিশুটির মা-বাবাকে জানায়। এ সুযোগে মহুবর শিশুটিকে নালার একটু দূরে নির্জন এলাকায় নিয়ে নির্যাতন করেন। শিশুটির চিৎকারে মহুবর তাকে ফেলে পালিয়ে যান। পরে প্রতিবেশী ও পরিবারের লোকজন তাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।

[প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর এবং মুন্সীগঞ্জ, শরণখোলা (বাগেরহাট) ও উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি]

স্বীকৃতি: প্রতিবেদনটি [এই লিংক থেকে ] গুগল নিউজ ফিডের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আমাদের ওয়েবসাইটে পোস্ট হয়েছে।  এই লেখার সকল তথ্য, উপাত্ত, দায়িত্ব এবং কৃতিত্ব এর রচয়িতার। 

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email

Facebook Page

Subscribe Please